শ্রী শ্রী জগদ্বন্ধু সুন্দর

শ্রী শ্রী জগদ্বন্ধু সুন্দর

জন্ম: ২৮ এপ্রিল ১৮৭১ খ্রিস্টাব্দ

জন্মস্থান: ডাহাপাড়া, মুর্শিদাবাদ, ভারত

দেখা হয়েছে: 4 বার

জীবনী ও পরিচয়

মৃত্যু সালঃ ১৭ সেপ্টেম্বর ১৯২১ খ্রিস্টাব্দ এবং বাংলা ১৩২৮ বঙ্গাব্দ ১ লা আশ্বিন বাংলা ১২৭৮ সালে ফরিদপুর শহরের ব্রাহ্মনকান্দায় দীননাথ ন্যায় রত্নের বাড়ীতে আবির্ভাব ঘটে শ্রী শ্রী জগদ্বন্ধু সুন্ধরের। তখল ছিল ইংরেজি ১৮৭১ সাল। পশ্চিম বঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ডাহাপাড়া গ্রামে বাস করতেন দীননাথ ন্যায়রত্ন । তিনি বঙ্গাধিকারীর সভাপন্ডিত ছিলেন। সীতা নবমী তিথিতে ব্রাহ্মমুহুর্ত দীননাথ ন্যায়রত্ন তার স্ত্রী শ্রী বামদেবী সহ ভোরে গঙ্গায় স্নান করতে যান। জগদ্বন্ধু একটি পদ্মফুলে ভাসতে ভাসতে তাদের সামনে এলে দীননাথ ন্যায় রত্ন বন্ধুকে উঠিয়ে বামদেবীর কোলে দেন। বামাদেবী জগদ্বন্ধুকে কোলে করে ঘরে গেলে জগদ্বন্ধু কেদেঁ ওঠেন। তখন তাঁরা বললেন, আমাদের ছেলে হয়েছে। দর্শনার্থীরা এলেন কিন্তু বামা দেবীর কোন প্রকার প্রসুতির লক্ষন দেখতে পেলেন না। দীননাথের স্ত্রী কখনও গর্ভবতী হয় নাই। এগার মাস বয়সে বন্ধু তার মাতাকে হারান। দীননাথ ন্যায়রত্ন তখন বন্ধুকে লালন পালনের জন্য ফরিদপুরস্থ ব্রাহ্মনকান্দার বাড়ীতে নিয়ে আসেন। সেখানে জগদ্বন্ধুর বাল্য বিধবা জ্যাঠাতুত বোন দিগম্বরী দেবী নিজ সন্তানের মত তাঁকে লালন-পালন করেন। অল্প বয়সেই জগদ্বন্ধু দিগম্বরী দেবীকে বলতেন ‘আমি অযোনী সম্ভব’ মহাপ্রভুর যে সকল লক্ষণ ছিল তাহা আমাতে আছে। তিনি আরও বলতেন এবার চারটি মহাদেশে সমানভাবে ধর্ম সংস্থাপন করিব, তবে আমার নাম জগদ্ধন্ধু। কিশোর বয়সেই নাম কীর্তন, ভগবত পাঠ, ভগবদালোচনা শুনলেই ভাবাবিষ্ট হয়ে পড়তেন। অন্ত্যজ ও অস্পৃশ্যদের প্রতি তাঁর অসাধারণ করুনা ছিল। সামাজিক নির্যাতনে অতিষ্ট হয়ে ফরিদপুরের বুনো বাগদীরা খ্রীষ্টধর্ম গ্রহণে উদ্যোগী হলে তাদের উপদেশ দানে নিবৃত্ত করে হরিভক্ত সম্প্রদায়ে পরিনত করেন। কোলকাতার রামবাগান অঞ্চলে বসবাসকালে ডোমদের নাম কীর্তন ও বৈষ্ণবীয় আচার-আচরণে উদ্বুদ্ধ করতেন। তিনি শ্রীধাম শ্রীঅঙ্গন প্রতিষ্ঠা করেন বাংলা আষাঢ় ১৩০৬ রথযাত্রা উৎসরে। শ্রীঅঙ্গনের এ জমি দান করেন ফরিদপুর গোয়ালচামটের শ্রীরামসুন্দর ও শ্রীরাম কুমারমুদি। শ্রীরাম শ্রীঅঙ্গন মহানাম প্রচারের কেন্দ্রে পরিণত হয়। তাঁর বিদ্যা জীবন স্থায়িত্ব হয় পঞ্চাশ বছর চার মাস বিশ দিন মাত্র। বিদ্যা জীবনের প্রথম আঠারো বৎসর বিদ্যাভাব, দশ বৎসর কর্মজীবন, পরবর্তী ষোল বৎসর আট মাস গম্ভীরালীলা নিমগ্ন থাকেন। ১৩২৮ সালের ১লা আশ্বিন ফরিদপুর শহরের প্রাণ কেন্দ্র অবস্থিত তাঁরই প্রতিষ্ঠিত শ্রী অঙ্গনে দেহত্যাগ করেন। এখানে ২৪ ঘন্টা ব্যাপী প্রভুর নাম কীর্তন হয় নিয়মিত। জন্ম ও মৃত্যুর সময় অনুযায়ী তিনি ৫০ বছর জীবিত ছিলেন। তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ -হরিকথা, চন্দ্রপাত, ত্রিকাল ইত্যাদি।
শেয়ার করুন
বিজ্ঞাপন

আপনার বিজ্ঞাপন এখানে প্রচার করুন

যোগাযোগ: ০১৭XXXXXXXX